স্বাধীন দেশে মেয়েরা এমন অসহায়: কাদের সিদ্দিকী

প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

ডেস্করিপোট: কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, এখানে মেয়েদের যে আকুতি শুনলাম, স্বাধীন দেশে মেয়েরা এমন অসহায় হবে- এটা ভাবা যায় না। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করে আমি খুবই মর্মাহত। আমি তাকে জিজ্ঞেস করবো যে, আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাহলে মেয়েদের এতো অসম্মান কেন? তারা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, কথা বলতে পারে না, তাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়। গতকাল দুপুরে সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনে ভাঙচুর, লুটপাট, মারধরসহ নারী শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় এবং ২০১১ সালে ঝালকাঠিতে র‌্যাব’র গুলিতে পা হারোনো গণ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সন্ত্রাসী কর্তৃক আহত লিমনকে দেখতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমি কোনোদিনও অস্তিত্ব বিক্রি করে জীবন চালাইনি। আমার কোনোদিন মন্ত্রিত্বের দরকার হয়নি। মন্ত্রিত্বের দরকার হলে ৭ বার মন্ত্রী হতে পারতাম। সেটা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেও হতে পারতাম, জিয়াউর রহমানের সঙ্গেও হতে পারতাম এবং শেখ হাসিনার সঙ্গেও হতে পারতাম।
এ সময় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করে আমি খুবই মর্মাহত। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এটি একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। যে যাই বলুক রাজনৈতিক কারণে এই মহান প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করা মোটেও ঠিক নয়। এখানে মেয়েদের যে আকুতি শুনলাম, স্বাধীন দেশে মেয়েরা এমন অসহায় হবে- এটা ভাবা যায় না। এখানে যদি কোনো বিরোধ থেকে থাকে সেটি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতো। তিনি আরও বলেন, জমি জমা নিয়ে কোনো ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। অন্যের জায়গাতেও যদি কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয় সেটি সামাজিক সৌন্দর্যতার সঙ্গে সমাধা করতে হবে, গায়ের জোরে নয়। এ সময় হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা এসেছি এটার যতটা করা দরকার আমরা করবো। কিন্তু নিজের ঘর কোনো কোনো সময় নিজেকেই সামলাতে হয় তবে সে কাজটা তোমরা করতে পারোনি। তিনি এ বিষয়গুলো দেখার চেষ্টা করবে বলে আশ্বস্ত করেন। এর আগে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে গিয়ে আহত লিমনসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তার সঙ্গে ডা. নাজিম উদ্দিনসহ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে অবস্থানরত নিরীহ ছাত্রীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও লাঞ্ছনার প্রতিবাদ জানিয়ে কটন টেক্সটাইলের সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে কালো ব্যানার হাতে আয়োজিত মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ করে। এ সময় আয়োজিত মানববন্ধন থেকে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মর্তুজা আলী বাবু বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং গণবিশ্ববিদ্যালয় দু’টি আলাদা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কিছু গরিব এবং মেধাবী ছাত্রী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভেতরে মহিলা হোস্টেলে অবস্থান করার সময় বহিরাগত সস্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় বিষয়টি জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। তবে থানা কর্তৃপক্ষ আমাদের মামলা আমলে না নিলে প্রয়োজনে কোর্টে গিয়ে মামলা দায়ের করবেন বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, শুক্রবার সাভারের মির্জানগর এলাকায় ১৫ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য পিএইচএ ভবন অবৈধভাবে মালিকানা দাবি করে কটন টেক্সটাইল ক্রাফটস লিমিটেড নামের ব্যানার ঝুলিয়ে দেয় বহিরাগতরা। এ সময় পিএইচএ ভবন দখলের চেষ্টাকালে লিমন বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তার হাত ভেঙে দেয় এবং ভবনে ভাঙচুর, মালামাল লুটসহ, হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের মারধর ও গাছপালা কেটে ফেলে সন্ত্রাসীরা।