সিলেটের ক্রিকেটার তৌহিদুল; মাথায় বলের আঘাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

প্রকাশিত: ১২:০৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২১

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রান্তিক নওরোজ নাবিল, সাকিব শাহরিয়ার, এইচ মোল্লারা সিলেটে প্রস্তুত হচ্ছেন। শান দিচ্ছেন ব্যাট-বলে। তখন ডাক্তারের দেওয়া ছুরিকাঁচির নিচে শুয়ে উইকেটরক্ষক সিলেটের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম ফেরদৌস!

চলতি বছরেই যুব বিশ্বকাপ খেলতে যাবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজে। তার আগে বাইশ গজের মিশন শুরু হবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে। এর মাঝে সম্ভাবনার প্রদীপ জ্বালিয়ে বয়সভিত্তিক দলের একটির পর একটি সিঁড়ি পার করে এবারের যুব দলে নিজের নাম শক্ত করেছিলেন তাওহিদুল। অথচ ফুল হয়ে সৌরভ ছড়ানোর আগে কুঁড়িতেই বিসর্জন হওয়ার পথে সিলেটের এই ক্রিকেটার।

তৌহিদুল ছিলেন গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ঘোষিত বাংলাদেশ স্কোয়াডে। যদিও শেষপর্যন্ত করোনাভাইরাসের কারণে এই সিরিজ খেলতে আসেনি পাকিস্তানি যুবারা। তবে আসবে জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

সবশেষ করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন চলার কারণে ছুটিতে ঢাকা ছেড়ে নিজ শহর সিলেটে যান তাওহিদুল। সেখানেই বিসিবির কোচ একেএম মাহমুদ ইমনের তত্ত্ববধানে একক অনুশীলন চালিয়ে যান তিনি। বিপত্তি বাধে সপ্তাহ দুয়েক আগে ব্যাটিং অনুশীলনের সময়। বাউন্সার সরাসরি আঘাত হানে তাওহিদুলের কপালে, চূর্ণ হয়ে যায় হাড়।

সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হয় সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কোচ একেএম মাহমুদ ইমন এ নিয়ে বলেন, ‘তৌহিদুল ইসলাম ফেরদৌস বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়। গত দুই সপ্তাহ আগে অনুশীলন করার সময় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তাৎক্ষণিক আমরা তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেলে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাই। সেখানে যাওয়ার পর অবস্থা বেগতিক দেখলে আমরা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করি।’

বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান শফিউল আলম নাদেল সিলেট বিভাগীর ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। দ্রুত তৌহিদুলকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। তবে সেখানকার ডাক্তাররা দ্রুত ঢাকায় নিয়ে অস্ত্রপচারের পরামর্শ দেন। তখন তাকে নেওয়া হয় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে গত ২১ আগস্ট অপারেশন হয় তাওহিদুলের ক্ষত স্থানে।

কোচ ইমন জানালেন, ‘ডাক্তাররা আবার যখন বলেন সার্জারি করা প্রয়োজন। তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী পরবর্তী ব্যবস্থা করেন। গত ২১ তারিখ সার্জারি হয়েছে তৌহিদুলের।’

জাতীয় দলের ক্রিকেটার না হলেও তৌহিদুলের চিকিৎসায় কমতি রাখছে না বিসিবি। অর্থনৈতিক সমর্থন দেওয়া থেকে সম্ভাব্য সবকিছু করছে ক্রিকেট বোর্ডে। বিসিবির চাওয়া তাওহিদুল আবার বাইশ গজে ফিরে আসুক দ্রুত।

শফিউল আলম নাদেল বলেন, ‘ডাক্তারের দেওয়া তথ্যমতে দ্রুত উন্নতি হচ্ছে তৌহিদের। তবুও মস্তিষ্ক বলে একটু শঙ্কা আছে। উন্নত চিকিৎসকসার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সবরকম সংযোগিতা করেছে, ভবিষ্যতেও যতরকমভাবে সহযোগিতা লাগে ক্রিকেট বোর্ড সার্বিকভাবে সেটি করবে। আশা করি সে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মাঠে ফিরতে পারবে।’