সিলেটে চার জেলায় ৪৪ ইউপিতে দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন আজ

প্রকাশিত: ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০২১

দ্বিতীয় ধাপে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগের চার জেলার ৪৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। এসব ইউনিয়নের বিদ্রোহীদের নিয়ে বেশ বিপাকে আছে আওয়ামী লীগ। দলের কঠোর অবস্থানও বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরাতে পারেনি। ৪৪ ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন ৫৫ জন।

এদিকে ৪৪ ইউপির বেশিরভাগেই স্বতন্ত্রের মোড়কে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপিও। তাই মূল লড়াইয়ে বিদ্রোহীদের পাশাপাশি বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গেও লড়তে হবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের। এতে এক তরফা নির্বাচনের সুযোগ নেই, এমনটা ভাবছেন স্থানীয় ভোটার ও সচতেন মহল।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও বলছেন, কোনো কোনো ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর চেয়েও বিদ্রোহী প্রার্থী বেশি শক্তিশালী। যে কারণে সেই ইউপিগুলোতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভরডুবির আশঙ্কা করছেন তারা।

বিদ্রোহীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই নেতা-কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। বিদ্রোহী হওয়া ১২ জনকে ইতোমধ্যে বহিস্কার করা হয়েছে। তারা আর কোনোদিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না।

দ্বিতীয় ধাপে সিলেট জেলার সদর উপজেলার ৪টি, বালাগঞ্জের ৬টি, কোম্পানীগঞ্জের ৫টি, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ১০টি, দোয়ারাবাজারের ৯টি, হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জের ৫টি এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিলেট জেলার তিনটি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে- সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা, জালালাবাদ, কান্দিগাঁও ও মোগলগাঁও, বালাগঞ্জের ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে পূর্বপৈলনপুর, বোয়ালজুড়, দেওয়ানবাজার, পশ্চিম গৌরিপুর, বালাগঞ্জ ও পূর্বগৌরিপুর, কোম্পানীগঞ্জের ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে আছে ইসলামপুর পূর্ব, তেলিখাল, ইছাকলস, উত্তর রনিখাই ও দক্ষিণ রনিখাই। এগুলোতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ১৩ জন।

সুনামগঞ্জের ছাতকে যে ১০টি ইউপিতে নির্বাচন হবে, সেগুলো হলো- ছাতক, কালারুকা, ছৈলা আফজালাবাদ, খুরমা উত্তর, খুরমা দক্ষিণ, চরমহল্লা, দোলারবাজার, ইসলামপুর, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ও জাউয়াবাজার ইউনিয়ন। এগুলোতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ২৫ জন।

দোয়ারাবাজারের ৯টির মধ্যে আছে দোয়ারাবাজার, বাংলাবাজার, লক্ষিপুর, সুরমা, দোহালিয়া, পান্ডারগাঁও, বোগলাবাজার, নরসিংপুর ও মান্নারগাঁও ইউনিয়ন। এগুলোতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ৮ জন।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের ৫টি ইউনিয়ন হলো আজমিরীগঞ্জ, বদলপুর, জলসুখা, কাকাইলছেও ও শিবপাশা। এগুলোতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ৫ জন।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে জায়ফরনগর, পশ্চিম জুড়ী, পূর্বজুড়ী, গোয়ালবাড়ি ও সাগরনাল ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এগুলোতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন।

হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহীদের ব্যাপারে দল খুবই কঠোর। এর আগেও যারা বিভিন্ন নির্বাচনে বিদ্রোহী হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবারও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যারা বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে না। তবে দ্বিতীয় ধাপে সিলেটের বিভিন্ন ইউনিয়নে দলটির ২০ জনেরও বেশি নেতা ও কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। শুধুমাত্র সিলেট জেলাতেই অন্তত ১৫ জন বিএনপি নেতা-কর্মী আছেন ভোটের মাঠে।

তবে জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার জানিয়েছেন, যেসব দলীয় নেতা-কর্মী প্রার্থী হয়েছেন, তা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এর সাথে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য ১০ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে ১১ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, বেবিট্যাক্সি ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, লঞ্চ, ইজিবাইক, ইঞ্জিনবোট ও স্পিডবোটসমূহের চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ১২ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলও বন্ধ থাকবে বলে পুলিশ জানায়। এছাড়া ১৪ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এমনকি নির্বাচনে যাতে কোনোরকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের ও সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান।

হবিগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, আমরা নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরণের অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।

ছাতক উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়েজুর রহমান জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্নে সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যথা সময়ে নিবার্চনী মালামাল কেন্দ্রে-কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশে নির্বাচন করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সূত্র: এস টি২৪