গুজব ছড়ানো ও গনপিটুনি রোধে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা

প্রকাশিত: ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২

 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশে গুজব ছড়ানো ও গণপিটুনির ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে হাইকোর্টের দেওয়া পাঁচ দফা নির্দেশনার রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ২০ জুলাই রাজধানীতে তাসলিমা বেগমকে হত্যার প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এ রুলের চূড়ান্ত শুনানি করে হাইকোর্ট পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন।

মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের তৎকালীন বেঞ্চ রায়ে স্বাক্ষর করার পর এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, রায়ের ৭ পৃষ্টার অনুলিপি হাতে পেয়েছি।

পাঁচ দফা নির্দেশনা হলো-

১. পুলিশের প্রত্যেক সার্কেল অফিসার (এএসপি) তাঁর অধীনের প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে ৬ মাসে অন্তত একবার গণপিটুনিপ্রবণতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে বৈঠক করবেন।

২. গণপিটুনির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার প্রচার কার্যক্রম ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রচারণা অব্যাহত রাখবে।

৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের অডিও, ভিডিও, খুদে বার্তা, যা গুজব সৃষ্টি বা গণপিটুনিতে মানুষকে উত্তেজিত করতে পারে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যে দুষ্কৃতকারীরা এ কাজে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৪. যখনই গণপিটুনির কোনো ঘটনা ঘটবে, কোনো রকম দেরি না করে তখনই থানার ওসি এফআইআর নিতে বাধ্য থাকবেন এবং তা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে অবহিত করবেন।

৫. গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম হত্যার ঘটনায় ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার উত্তর বাড্ডা প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অবহেলার ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

আরটিভি নিউজ