যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার পাল্টা-পাল্টি সতর্কবার্তা

প্রকাশিত: ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২

তথ্যপ্রযুক্তির লড়াইয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে বলা হয় ‘মাস্টার’। ইউক্রেন ইস্যুতে এবার নিজের তৈরি চালেই আটকা পড়েছেন পুতিন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাইডেন প্রশাসনকে দেখা যাচ্ছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে একের পর এক সতর্কবার্তা প্রকাশ করতে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে খোদ বাইডেনকেও বিভিন্ন বার্তা দিতে দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের বার্তা শুনলে মনে হবে, রাত ভোর হলেই ইউক্রেনে হামলা করতে যাচ্ছে রাশিয়া। যদিও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, ইউক্রেনে হামলার কোনো ইচ্ছে নেই রাশিয়ার।

গত শুক্রবার বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের জানান, ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া তার সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি করছে এমন প্রমাণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা বলতে শুরু করেন, রাশিয়া হয়তো বুধবারের আগেই হামলা চালাবে। কিউবার মিসাইল সংকটের পর এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক নথির উদ্ধৃতি দিয়ে মিডিয়া সরগরম করতে দেখা যাচ্ছে। তবে এসব নথির কোনোটাই কিন্তু এখনো প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন। ইরাকে হামলা চালানোর আগেও যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নথির কথা বলেছিল। কিন্তু হামলা চালানোর পর দেখা যায়, নথির কোনো তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। ইরাকের মরুভূমিতে বিপুল সংখ্যক কেন, একটিও রাসায়নিক অস্ত্র পাওয়া যায়নি। অথচ এই রাসায়নিক অস্ত্রই ছিল সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অজুহাত। ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া সৈন্য সমাবেশ করেছে, এমন কিছু ছবি যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ করেছে, তবে সেগুলো একটি বেসরকারি সংস্থার তোলা। আদতেই রাশিয়া সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে কি না তা কেবল বলতে পারে মস্কো।

বাইডেন আশা করছেন, রাশিয়ার পরিকল্পনা ফাঁস করে দিয়ে তিনি মস্কোর হামলার অভিপ্রায় পিছিয়ে দিয়েছেন। হামলার পরিকল্পনা পিছিয়ে যাওয়ার ফলে মস্কো যাতে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে, বাইডেনের এমন চাওয়া ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। যুদ্ধে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিকে তাই বাইডেন প্রশাসন এগিয়ে রাখতে চাইছে। বাইডেনের এমন তথ্যের লড়াইয়ে মস্কো কিছুটা কোণঠাসা। কারণ ইতিমধ্যেই একাধিক দেশ তাদের নাগরিকদের ইউক্রেন থেকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। অবশ্য বাইডেন প্রশাসনের এমন গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র শঙ্কাপূর্ণ গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রকাশ করে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

২০১৪ সালে রাশিয়া যখন ইউক্রেনে প্রবেশ করে তখন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের কাছে থাকা এ সংক্রান্ত রিপোর্ট দেয়নি ওবামা প্রশাসনকে। একই ভুল আর করতে চাইছে না বাইডেন প্রশাসন। এবার একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিয়ে বাইডেন শুরু করেছেন নিজস্ব তথ্য যুদ্ধ, যেমনটা ২০১৪ সালে পুতিন করেছিলেন ক্রিমিয়ার ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিরের মুখপাত্র এমিলি জে হর্নে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘রাশিয়া কীভাবে তথ্যকে নিরাপত্তা ও সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে তা আমরা শিখেছি। কীভাবে এই লড়াইকে মোকাবিলা করা যায়, তাও আমরা শিখেছি এখন।’ সূত্র: দেশ রূপান্তর